যুদ্ধবিরতির মাঝেও ‘উত্তেজনার ফাঁদে’ ট্রাম্প প্রশাসন; ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিয়ে রস হ্যারিসনের বিস্ফোরক বিশ্লেষণ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও, তেহরান ও ওয়াশিংটন এখনো এক জটিল ও বিপজ্জনক ‘উত্তেজনার ফাঁদে’ আটকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ রস হ্যারিসন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। হ্যারিসন বলেন, বর্তমানের জটিল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এটি বোঝা অত্যন্ত কঠিন যে— দুই দেশ আসলেই কোনো স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোচ্ছে, নাকি যেকোনো মুহূর্তে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে।

রস হ্যারিসনের মতে, কয়েক সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে ‘প্রক্সিমিটি টকস’ বা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, বর্তমান সংকট কাটাতে তা মোটেও যথেষ্ট নয়। এই অচলাবস্থা ভাঙতে হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আরও সরাসরি, দ্বিপাক্ষিক এবং গভীর আলোচনা প্রয়োজন।

তিনি উল্লেখ করেন, পর্দার আড়ালে সব পক্ষই এখন একটি টেকসই ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি’ (সমভোতার মৌলিক কাঠামো) তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও দম্ভ সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে চরমভাবে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে।

ইরানের কৌশলগত অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে রস হ্যারিসন বলেন, “ইরান কোনোভাবেই বিশ্বমঞ্চে এমন বার্তা দিতে চায় না যে তারা মার্কিন সামরিক হুমকির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। কারণ তেহরানের নীতিনির্ধারকদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই যুদ্ধ সফলভাবে শেষ করতে হলে আগে নিজেদের সামরিক ও কৌশলগত প্রতিরোধক্ষমতা (Deterrence) প্রমাণ করতেই হবে।”

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও এই যুদ্ধ থেকে নিজেদের বড় কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক অর্জন বিশ্বকে দেখাতে চায়। হ্যারিসনের মতে, দুই পক্ষের এই বিপরীতমুখী মানসিক অবস্থাই মূলত ট্রাম্প প্রশাসনকে এক ধরনের নতুন উত্তেজনার ফাঁদে ফেলেছে।

হ্যারিসন আরও বলেন, মূলত ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে নিজেদের একটি সুবিধাজনক ও শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে মরিয়া। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনকে নিজেদের ভেতরের রাজনৈতিক স্বার্থে এটি বিশ্বাস করতে হবে যে— যুদ্ধের আগে যা তাদের অর্জনে ছিল না, তারা তা এই যুদ্ধ বা অবরোধের মাধ্যমে অর্জন করতে পেরেছে। আর এটাই হলো মূলত উত্তেজনা বৃদ্ধির সেই ফাঁদ, যেটিতে বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প পা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের প্রত্যক্ষ সংঘাত ও হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের মধ্যে বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে এখনো বড় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি এখনো দুই দেশের আলোচনার টেবিলে সবচেয়ে জটিল ও অমীমাংসিত বিষয় হয়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *