চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫) গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ সোমবার (১৫ জুন) রাত ১২টার দিকে নিহতের ভাই পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে রাউজান থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন৷
দায়েরকৃত এই মামলায় চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানসহ ১১ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে৷
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি: এর আগে, গত শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় মাসুদুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা৷ নিহত মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন৷ প্রকাশ্য বাজারে এই ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷
মামলার বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে আমরা ইতিমধ্যে কয়েকজন খুনিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি৷ মামলায় মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে৷ এর মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে আগে গ্রেপ্তার হওয়া জাকের মিয়াকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে৷ বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষ গ্রেপ্তার অভিযান জোরদারে চলমান রয়েছে৷’
রাউজান থানা পুলিশ জানায়, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত কাউকে নতুন করে গ্রেপ্তার করা না গেলেও সন্দেহভাজন হিসেবে মুহাম্মদ জাকির নামে একজনকে আটক করা হয়েছে৷ তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে৷ এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল গডফাদারদের চিহ্নিত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে৷
