ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্তে সৌদি আরবকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারমাণবিক চুক্তির বিতর্কিত প্রস্তাবটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীন এবং পাকিস্তানের জন্য এক নজিরবিহীন অনন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে৷ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন পাকিস্তানের ফ্রন্টিয়ার কোরের সাবেক কমান্ডার ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারিক খান৷
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ স্পষ্ট জানান যে— সৌদি আরবের সাথে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি কার্যকর করতে হলে রিয়াদকে অবশ্যই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিতে হবে৷ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল৷
লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারিক খান বলেন— সৌদি আরবের জন্য প্রস্তাবিত পারমাণবিক চুক্তিকে ওয়াশিংটন হঠাৎ করেই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের বিপরীতে নতুন সমীকরণ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে৷
তারিক খানের মতে— বেইজিং কোনো ধরনের জটিল রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই সৌদি আরব এবং একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসতে পারে৷ এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এক বিশাল কূটনৈতিক ও প্রাকৌশলিক ভূমিকা পালনের পথ খুলে যেতে পারে৷
তবে এই জটিল পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের সামনে বড় ধরণের আন্তর্জাতিক চাপের ঝুঁকিও দেখছেন তিনি৷ তারিক খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন— ‘পাকিস্তানকে শেষ পর্যন্ত হয় ইরান ও চীনের পক্ষে, নয়তো সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নিজেদের অবস্থান সুনির্দিষ্ট করতে হতে পারে৷ যে পক্ষই বেছে নেওয়া হোক না কেন, অপর পক্ষের সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যান বা দূরত্ব সৃষ্টির পরিণতি ইসলামাবাদের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য অত্যন্ত কঠিন ও ক্ষতিকর হতে পারে৷’
