রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, বেলারুশকে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দিলেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে বড় ধরনের একটি বিমান হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ এমন এক চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে দেশের সাধারণ নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্ক সংকেতের (Air Raid Sirens) প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷ তুরস্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷

স্থানীয় সময় শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, “আজ রাত এবং নিকট ভবিষ্যতে আমাদের বিমান হামলার সতর্কবার্তার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে৷ কারণ, রুশ বাহিনী নতুন একটি ব্যাপক ও বিধ্বংসী হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে৷” তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, রুশ বাহিনী পুরো ইউক্রেনজুড়ে লাগাতার হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার মূল লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বেসামরিক মানুষ এবং এতে প্রতিনিয়ত সাধারণ নাগরিকরা নিহত হচ্ছেন৷ একই সাথে তিনি রাশিয়ার অভ্যন্তরে টিউমেন অঞ্চলে একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে সম্পূর্ণ সফল বলে উল্লেখ করেন৷

বেলারুশকে কড়া আলটিমেটাম ও এক সপ্তাহের ডেডলাইন: ভাষণে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রতিবেশী দেশ বেলারুশ এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে সরাসরি রাশিয়াকে প্রযুক্তিগত ও জ্বালানি দিয়ে ব্যাপক সহায়তা করছে৷ তাঁর দাবি, ইউক্রেন সীমান্তের একদম কাছাকাছি বেলারুশের ভূখণ্ডে এমন কিছু বিশেষ রিপিটার বা প্রযুক্তিগত সংকেত সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে, যা মূলত ইউক্রেনের ভেতরে রুশ ড্রোন হামলার নিখুঁত লক্ষ্য নির্ধারণে সরাসরি সহায়তা করছে৷ তিনি মিনস্কের উদ্দেশ্যে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, বেলারুশের হাতে এখনও সামান্য সময় আছে এই ক্ষতিকর সরঞ্জামগুলো সীমান্ত থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলার৷

এর আগে গত শুক্রবারও জেলেনস্কি বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছিলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকা কথিত রুশ ড্রোন-সহায়ক এই সরঞ্জামগুলো যদি বেলারুশ প্রশাসন অবিলম্বে অপসারণ না করে, তবে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী নিজেদের সুরক্ষায় নিজেই কঠোর ব্যবস্থা নেবে৷ তিনি নিজের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) লিখেছেন, “ইউক্রেন সীমান্তঘেঁষা দুটি সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে এমন কিছু ক্ষতিকর সরঞ্জাম রয়েছে, যা আমাদের দেশের নিরীহ জনগণের ওপর হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হচ্ছে৷ লুকাশেঙ্কো যত দ্রুত সম্ভব এগুলো নিজে থেকে সরিয়ে ফেলুন৷ আমি মনে করি, এর জন্য এক সপ্তাহের সময়ই যথেষ্ট৷”

জ্বালানি সরবরাহে বিশাল লাফ: ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, চলতি ২০২৬ বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে বেলারুশ থেকে রাশিয়ায় পেট্রোল সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেকর্ড ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ একই সাথে দেশটিতে বেলারুশ থেকে ডিজেল রপ্তানিও আগের চেয়ে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ তাঁর মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও শিল্প সহায়তা রাশিয়ার সামরিক অবস্থান এবং মিনস্কের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মহলে আরও বেশি শক্তিশালী করছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *