পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় পরীক্ষার জন্য কিংবা কোনো রোগীকে রক্ত দেওয়া যাবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। ইসলামের ফিকহ শাস্ত্র ও হাদিসের আলোকে এর সঠিক সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোজা নষ্ট হয় না। রোজা ভঙ্গের মূল কারণ হলো শরীরের স্বাভাবিক প্রবেশপথ (যেমন: মুখ, নাক ইত্যাদি) দিয়ে কোনো কিছু ভেতরে প্রবেশ করা। শরীর থেকে কোনো কিছু বের হওয়া (যেমন: রক্ত) রোজা ভঙ্গের কারণ নয়। তাই কোনো রোগীকে রক্ত দিলে বা পরীক্ষার জন্য রক্ত স্যাম্পল দিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।
বিখ্যাত সাহাবি ইকরিমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
“রাসুলুল্লাহ (সা.) হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধা অবস্থায় এবং রোজা থাকা অবস্থায় শরীর থেকে শিঙ্গার (রক্ত বের করার এক পদ্ধতি) মাধ্যমে রক্ত বের করেছেন।”(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৩৮)
যদি কেউ শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হন এবং রক্ত দিলে রোজা রাখা বা চালিয়ে যাওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্য রক্ত না দেওয়াই উত্তম। এমন অবস্থায় রক্ত দেওয়াকে ফকিহগণ ‘মাকরুহ’ বলেছেন। (সূত্র: আল-বাহরুর রায়েক, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৭৩)
যদি কোনো রোজাদার ব্যক্তির শরীরে রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবে তাতেও রোজা ভাঙবে না। কারণ, রক্ত শরীরের উল্লেখযোগ্য চার নালির কোনোটি দিয়ে প্রবেশ করে না; বরং তা শিরার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। সুতরাং প্রয়োজনে রোজা রেখে শরীরে রক্ত নেওয়া জায়েজ।
মুমিন মুসলমানরা অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে রোজা রেখে নিশ্চিন্তে রক্ত দান করতে পারেন কিংবা শরীরে রক্ত গ্রহণ করতে পারেন। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।
