লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন (যুক্তরাষ্ট্র) দূতাবাসের অত্যন্ত কাছাকাছি এক আকস্মিক গুলির ঘটনা ঘটেছে৷ ঘটনার পরপরই চরম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে লেবানিজ সেনাবাহিনী ওই এলাকায় যাওয়ার সকল প্রধান সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং চারপাশের নিরাপত্তা জোরদার করে৷
আজ বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷ তবে প্রাথমিক তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি সরাসরি মার্কিন দূতাবাসকে ঘিরে কোনো পরিকল্পিত নিরাপত্তা হুমকি বা বিশেষ নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে জানানো হয়েছে৷
সেনাবাহিনীর নির্দেশ অমান্য ও গুলি: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— বৈরুতের আওকার এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বাইরের সেনা চেকপয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন লেবানিজ সেনাসদস্যরা৷ এ সময় সেখানে সেনাবাহিনীর দেওয়া একটি জরুরি নির্দেশ অমান্য করে মোটরসাইকেল বা গাড়ি নিয়ে দুই ব্যক্তি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে৷ সন্দেহভাজন ওই দুই ব্যক্তিকে থামাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন সেনাসদস্যরা৷ পরবর্তীতে ধাওয়া করে ওই দুই ব্যক্তিকে সফলভাবে আটক করতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী৷
এই ঘটনা সম্পর্কে মার্কিন দূতাবাসের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, যেহেতু এটি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি নিয়মিত অ্যাকশন, তাই এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার একক দায়িত্ব লেবাননের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের৷
অবরুদ্ধ আওকার এলাকা: এর আগে আজ সকাল থেকেই লেবাননের বেশ কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের সীমান্ত এলাকায় একাধিক গুলির শব্দ শোনার খবর প্রকাশ করলে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়৷ সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ঘটনার ঠিক পরপরই লেবানিজ সেনাবাহিনী ওই পুরো কূটনৈতিক এলাকার প্রবেশপথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় এবং সাধারণ যান চলাচলের সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়৷
তবে এই বিশেষ অভিযান ও দুই ব্যক্তিকে আটকের বিষয়ে লেবানন সরকারের স্বরাষ্ট্র বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি৷ আটকদের পরিচয় এবং তারা কী উদ্দেশ্যে চেকপোস্ট ফাঁকি দিয়ে পালাচ্ছিল, তা জানতে স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে৷
