বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে “নড়াইল সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠার দাবিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানানো হয় সভা থেকে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকায় অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ১ ওয়ান ফাউন্ডেশন এর যৌথ আয়োজনে “নড়াইল সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও আসন্ন নজরুল জয়ন্তী” শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এইচ এম সিরাজ। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন হাবিবুর রহমান, মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সৈয়দ খায়রুল আলম,এম আর করিম, আব্দুল বারী মুকুল, নয়ন হোসেন, মো. এনামুল কবির, সিদ্দিকুর রহমান, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম চৌধুরী, এম এ সোহেল মৃধা, জান্নাতুল ফেরদৌসে এবং মেহের আফরোজ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, “সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সারা পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারবে। বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন, “এটি অত্যন্ত গৌরবের বিষয় যে, এমন একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব নড়াইল জেলা থেকে উত্থাপিত হয়েছে এবং অগ্নিবীণা সংসদ এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে।”
জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মহান জাতীয় সংসদে নড়াইল জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এ দাবি উত্থাপন করেছেন, এজন্য খুলনা বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু নড়াইল নয়, সমগ্র বাংলাদেশ সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে এবং বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব দরবারে আরও গৌরবের সঙ্গে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারবো।”
সভাপতির বক্তব্যে এইচ এম সিরাজ বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম হবে।”
তিনি আসন্ন নজরুল জয়ন্তী যথাযথ মর্যাদা ও ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপনের আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর সাহিত্য, সংগীত ও বিদ্রোহী চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে শক্তিশালী করতে একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মত প্রকাশ করেন
সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের দাবি: ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক
