সাঘাটায় মাদকাসক্ত নাতির ছুরিকাঘাতে দাদি নিহত, রক্তাক্ত দাদা আশঙ্কাজনক

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় মাদকাসক্তি ও তীব্র পারিবারিক কলহের জেরে নিজ নাতির বর্বরোচিত ও নৃশংস ছুরিকাঘাতে মোছা. ফেরেজা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা দাদি নিহত হয়েছেন৷ এই একই ঘটনায় ঘাতক নাতির ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়ে রক্তক্ষয়ী অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন নিহত বৃদ্ধার স্বামী অর্থাৎ দাদা আব্দুল করিম (৭২)৷

আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সাঘাটা উপজেলার খামার পবন তাইড় গ্রামে এই লোমহর্ষক ও হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটে৷ ঘটনার পর পরই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক নাতি শাকিলকে (১৯) অবরুদ্ধ করে গণধোলাই শেষে সাঘাটা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে৷ অভিযুক্ত শাকিল একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে৷

মাদকাসক্তি ও স্ত্রীকে ফেরানোর কলহের জেরে এই বর্বরতা: স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে— অভিযুক্ত তরুণ শাকিল দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত ছিল৷ মাদক সেবনের টাকার জন্য প্রায়শই সে পরিবারের লোকজনকে মারধর ও অত্যাচার করত৷ এই মাদকাসক্তি ও পারিবারিক কলহের জেরে কিছু দিন পূর্বে শাকিলের স্ত্রী তাকে ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান৷ আজ বুধবার দুপুরে বাপের বাড়ি থেকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দাদি ফেরেজা বেগম ও দাদা আব্দুল করিমের সাথে শাকিলের তীব্র কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডা হয়৷ একপর্যায়ে শাকিল চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে ধারালো ছুরি এনে বৃদ্ধ দাদা ও দাদিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও আঘাত করতে শুরু করে৷

হাসপাতালে নেওয়ার পথে দাদির মৃত্যু: ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে বৃদ্ধ দম্পতি রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন৷ তাদের আকুল চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে এসে ঘাতক শাকিলকে ঘটনাস্থলেই আটকে ফেলেন এবং সাঘাটা থানা পুলিশকে খবর দেন৷ পরে পুলিশ দ্রুত স্পটে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়৷

এদিকে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান৷ সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি দেখে উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রেফার করেন৷ কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, অ্যাম্বুলেন্সযোগে বগুড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই ছটফট করতে করতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন দাদি ফেরেজা বেগম৷ গুরুতর আহত দাদা আব্দুল করিম বর্তমানে শজিমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন৷

পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ: সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান— ঘাতক নাতি শাকিলকে গ্রেফতার করে থানায় এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ প্রাথমিকভাবে সে মাদকাসক্তির কারণে মাথা ঠিক রাখতে না পেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে৷ পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে৷ এই নৃশংস ঘটনায় সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *