বাউফলে বিএনপির মিছিলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরালে তোলপাড়

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের শান্তিপূর্ণ মোটরসাইকেল মিছিলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের একদল সশস্ত্র কর্মীর অতর্কিত ও বর্বরোচিত হামলার একটি সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে৷ ৭ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের এই চাঞ্চল্যকর ভিডিওটি আজ বুধবার (১ জুলাই) ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে৷

হামলার ঘটনায় ৩৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর বাউফল থানা পুলিশ গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে এজাহারভুক্ত প্রধান এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে, যিনি স্থানীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে৷

সিসিটিভি ফুটেজে হামলার চালচিত্র: ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে— গত শনিবার (২৭ জুন) রাত ৯টার দিকে প্রায় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকরা একটি সাংগঠনিক মিছিল বের করেন৷ মিছিলটি কালাইয়া বেইলি ব্রিজ অতিক্রম করে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই ওত পেতে থাকা ৩০ থেকে ৩৫ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উগ্র কর্মী দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর আকস্মিক ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ ভিডিওতে হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং লাঠি দিয়ে নেতাকর্মীদের পেটাতে দেখা যায়৷

যুবলীগে মিশে যাওয়া শিবির নেতার সংশ্লিষ্টতা: ভাইরাল হওয়া এই নগ্ন হামলার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আযম চৌধুরী বলেন— “হামলার সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েকজন ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মীও সরাসরি অস্ত্র হাতে জড়িত ছিলেন৷ তারা মূলত ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর নিজেদের পিঠ বাঁচাতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে গোপনে যুক্ত হয়েছিলেন৷ এই কাপুরুষোচিত হামলায় আমাদের ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ২০ থেকে ২৫টি মূলবান মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ ভাঙচুর করে কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছে৷”

মামলা ও প্রধান আসামি গ্রেফতার: এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মামুন বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন, যাতে ৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে৷ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাউফল থানা পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি ইমরানকে গ্রেফতার করেছে৷ গ্রেফতারকৃত ইমরান কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি বলে দলীয় ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে৷

পুলিশের রানিং বক্তব্য ও অভিযান: বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম মামলার অগ্রগতির বিষয়ে আবং টিভিকে জানান— “আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি৷ মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি ইমরানকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৭ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজটি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে অন্য হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে৷ অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না৷”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *