সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুর নতুন প্রকোপ: মোট আক্রান্ত বেড়ে ৭৩, মশার প্রজনন রুখতে স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ সতর্কতা

চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সিলেট বিভাগের চার জেলায় আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ৷ গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও দুইজনের শরীরে মারাত্মক ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে৷ এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ জনে৷ বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আটজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন বা ভর্তি রয়েছেন৷ আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন৷

হাসপাতালের রানিং চিত্র ও জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান: স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী— সিলেট বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে যে আটজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন, বেসরকারি মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে একজন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে একজন, হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে একজন, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে একজন, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন৷

জেলাভিত্তিক সার্বিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে— চলতি বছরে সিলেট বিভাগের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন৷ এ ছাড়া সুনামগঞ্জে ১৫ জন, সিলেটে ১৩ জন এবং মৌলভীবাজারে আটজন আক্রান্ত হয়েছেন৷ একই সময়ে জীবিকার তাগিদে বা অন্য প্রয়োজনে বিভাগের বাইরে থেকে সিলেটে আসা আরও তিনজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের স্থায়ী নিবাস যথাক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোণা ও বরিশাল জেলায়৷

স্বাস্থ্য পরিচালকের রানিং নির্দেশনা ও এডিস সতর্কবার্তা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম ডেঙ্গুর এই রানিং পরিস্থিতি নিয়ে বলেন— “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও দুইজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন৷ যেহেতু পূর্ণাঙ্গ বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে, তাই এই সময়ে বাসাবাড়ির চারপাশ, ফুলের টব, ছাদ বা ডাবের খোসায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে৷”

তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বস্তরের নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি এবং আশপাশে জমে থাকা পানি তিন দিনের মধ্যে দ্রুত অপসারণ করা, সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সামাজিক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জোর আহ্বান জানান৷ স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সিলেটের ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোকে সব ধরনের গাইডলাইন ও জরুরি চিকিৎসার ওষুধ প্রস্তুত রাখার রানিং নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *