ইরানের রেলপথ ও সেতুতে মার্কিন বিমান হামলা: ওয়াশিংটনকে জঘন্য ‘যুদ্ধাপরাধে’ অভিযুক্ত করল তেহরান, চুক্তি লঙ্ঘনের দাবি

ইরানের অভ্যন্তরে বেসামরিক অবকাঠামো ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাশহাদগামী রেলপথের দুটি প্রধান সেতুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান দ্বারা উপর্যুপরি বোমাবর্ষণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াশিংটনকে জঘন্য ‘যুদ্ধাপরাধে’ (War Crime) অভিযুক্ত করেছে তেহরান৷ আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক অত্যন্ত কড়া ও জরুরি কূটনৈতিক বিবৃতিতে এই অভিযোগ আনা হয়েছে৷ ইরানের দাবি— যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক ও বর্বরোচিত হামলা সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের জানমালের সুরক্ষার নীতিমালার চরম পরিপন্থী৷

সেতু ধ্বংস ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের বিবরণ: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়— গত ৪৮ ঘণ্টায় মার্কিন বিমানবাহিনী আন্তর্জাতিক সব নিয়ম লঙ্ঘন করে ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় কয়েকটি আবাসিক এলাকাসহ দেশটির পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাশহাদগামী মূল রেলপথের ওপর থাকা দুটি প্রধান যোগাযোগ সেতুতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে৷

তেহরানের দাবি— গত ৪৮ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত এসব বিমান হামলা সম্পূর্ণ অপরাধমূলক এবং এটি সরাসরি জাতিসংঘ সনদের (UN Charter) পরিপন্থী৷ শুধু তাই নয়, গত মাসে ওমান বা কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে যে বিশেষ দ্বিপাক্ষিক ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক হামলা সেই চুক্তিকেও সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লঙ্ঘন করেছে৷ এই হামলার ফলে ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় বেসামরিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রানিং বিপর্যয় ও অচল হয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে৷

৯টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি পেন্টাগনের: এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ (USCENTCOM) এক বিশেষ প্রেস রিলিজ বা বিবৃতিতে এই বিমান হামলার রানিং সত্যতা নিশ্চিত করেছে৷ তবে মার্কিন কমান্ডের দাবি— তাদের বিমানবাহিনী মূলত ইরানের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত প্রায় ৯০টি অতি গোপন ও সক্রিয় ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁত ও সফলভাবে হামলা চালিয়েছে৷ মার্কিন বিবৃতিতে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো কিংবা কোনো রেলওয়ে সেতুতে ইচ্ছাকৃত হামলার কথা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং কোনো সেতুতে হামলার তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি৷ ওয়াশিংটনের এই দাবিকে ‘মিথ্যাচার’ বলে আখ্যা দিয়ে তেহরান জানিয়েছে— তারা আন্তর্জাতিক আদালতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বর্বরোচিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার রানিং প্রস্তুতি গ্রহণ করছে৷

সূত্র : এএফপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *