মাঠের ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা থাকলেও রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা খেলেও তিনি হতাশ নন; বরং এই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছেন, রাজনীতিতে কাজ করার আগ্রহ তার আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সাকিবকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। সাকিব বলেন, “আমার মনে হয় (সিদ্ধান্ত) ঠিক ছিল, ঠিক আছে এবং ঠিকই থাকবে। আজ যা ভুল মনে হচ্ছে, ১০ বছর পর হয়তো সেটিই সঠিক মনে হবে।”
দেশের মানুষের সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরেন। সাকিব বলেন, “মানুষ ভুলে যায় আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য ছিলাম। ক্রিকেট খেলার সময় সারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করলেও ভোটে জেতার জন্য শুধু আমার এলাকার মানুষই ভোট দিয়েছেন। সারা দেশের মানুষ তো আর আমাকে ভোট দেননি। অনেকে এই পার্থক্যটা করতে পারেন না।”
রাজনীতি সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা বদলানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সাকিব বলেন, “অনেকে মনে করেন রাজনীতি খারাপ জিনিস। কিন্তু রাজনীতি ছাড়া সিস্টেম বদলানো সম্ভব নয়। এটি মানুষের সেবা করার অন্যতম বড় জায়গা।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অনেকে সেবা দেওয়ার চেয়ে নিতে বেশি পছন্দ করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাকিব জানান, আগে ভাবতেন সিদ্ধান্ত নিলেই অনেক কিছু বদলে ফেলা যায়, কিন্তু এখন বাস্তব অভিজ্ঞতায় মনে করছেন আরও অনেক বেশি কাজ করার প্রয়োজন আছে। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকার বিষয়টিও তিনি সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন।
