হিজলায় মেঘনার শাখা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবি; বাবা-ছেলেসহ ৩ জন নিখোঁজ

পবিত্র ঈদুল আজহার মেগা ছুটির প্রথম দিনেই বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীর শাখা নদীতে এক ভয়াবহ ও আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে যাত্রীবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ অন্তত তিনজন নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন।

আজ সোমবার (২৫ মে) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ধুলখোলা সংলগ্ন মেঘনার শাখা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজদের পরিচয়: নৌপুলিশ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন— হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নুর ইসলাম (৪৫), তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে মো. ইব্রাহিম এবং একই এলাকার মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।

হিজলা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আজ সোমবার বিকেলে সরকারি জেলে কার্ডের বিশেষ বরাদ্দের চাল নিয়ে হিজলার আলিগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশে একটি ইঞ্জিনচালিত যাত্রীবাহী নৌকা রওনা দেয়। নৌকাটি মাঝনদীতে পৌঁছালে আকস্মিকভাবে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে নৌকাটি পানিতে থৈ থৈ করতে করতে মাঝনদীতেই ডুবে যায়।

নৌকায় চালকসহ মোট ৮ জন আরোহী ছিলেন। নৌকাটি ডোবার মূহূর্তে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি বালুবাহী ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এলে ৫ জন যাত্রী অলৌকিকভাবে সেটিতে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। তবে বাকি ৩ জন তীব্র স্রোতের তোড়ে নদীতে তলিয়ে যান।

দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় জেলেরা এবং ধুলখোলার বাসিন্দারা নদীতে বড় জাল ফেলে নিখোঁজদের সন্ধানে প্রথম উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে হিজলা নৌপুলিশের সাথে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিস এবং কোস্ট গার্ডের বিশেষ ডুবুরি দল।

নৌপুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানান, মেঘনার ওই শাখায় তীব্র স্রোত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। আজ রাত ১০টা (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) পর্যন্ত নদী বক্ষে চিরুনি তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজ বাবা-ছেলেসহ ৩ জনের কোনো সন্ধান মেলেনি। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় নদীর তীরে ভিড় করেছেন শত শত মানুষ; তাদের কান্নায় ধুলখোলা ঘাটের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নিখোঁজদের উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *