২ দিনে দুবার শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ইরান

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন এতটা কাছে এসেও শেষ পর্যন্ত এক রাশ বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে অপূর্ণই থেকে গেল ইরানের৷ মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দু-দুবার শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য স্বপ্নভঙ্গের নির্মম ও তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই চোখের জলে বিদায় নিতে হলো এশিয়ার এই শক্তিশালী দলটিকে৷ মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় না হওয়ায় চরম ট্র্যাজেডির শিকার হতে হলো তাদের৷

৩ ড্রয়ের মহাকাব্যও যথেষ্ট হলো না নকআউটের জন্য: চলমান আসরের ‘জি’ গ্রুপে নিজেদের তিনটি ম্যাচেই ড্র করে ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ইরান৷ কিন্তু এই অপরাজিত থাকার রেকর্ডও তাদের শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়নি৷ এই গ্রুপ থেকে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেলজিয়াম৷ সমান ৫ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে রানার্সআপ হিসেবে নকআউটের টিকিট কেটেছে সালাহদের মিশর৷

ভিএআর (VAR) নামক আক্ষেপের প্রথম ধাক্কা: ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় আক্ষেপের জন্ম দিয়েছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি৷ মিশরের বিপক্ষে ১-১ সমতায় থাকা অবস্থায় ম্যাচ যখন প্রায় শেষের দিকে, ঠিক তখন যোগ করা সময়ের (ইনজুরি টাইম) ষষ্ঠ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক গোল করে বল জালে পাঠিয়ে বুনো উল্লাসে মেতে উঠেছিল পুরো ইরান শিবির৷ কিন্তু রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের (VAR) সিদ্ধান্ত চেক করলে দেখা যায় গোলটি অফসাইড ছিল৷ ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়৷ সেই একটি সিদ্ধান্তে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয় এবং তিন পয়েন্টের বদলে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইরানকে৷ গোলটি বৈধ হলে সেদিনই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যেত দলটির৷

অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচের যোগ করা সময়ের মহানাটক: মিশর ম্যাচের পর নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা ও নকআউটের শেষ টিকিট পাওয়ার আশায় ইরানকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ‘জে’ গ্রুপের আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া ম্যাচের সমীকরণের দিকে৷ সমীকরণটি ছিল খুবই সহজ— আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচটি ড্র ছাড়া যেকোনো এক দলের পক্ষে গেলেই সেরা তৃতীয় দল হিসেবে নকআউটে উঠে যেত ইরান৷

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ২-২ সমতা৷ এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আলজেরিয়া গোল করে এগিয়ে গেলে ইরানের ডাগআউটে আবারও নকআউটের আশার আলো জ্বলে ওঠে৷ কিন্তু সেই আনন্দও স্থায়ী হয়নি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য৷ অতিরিক্ত সময় ছয় মিনিট পেরিয়ে ম্যাচ যখন শেষ বাঁশির অপেক্ষায়, ঠিক তখনই অস্ট্রিয়া সমতাসূচক গোল (৩-৩) করে বসে৷ ম্যাচটি ড্র হওয়ার সাথে সাথে দুই দলই নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করে, আর ইরানের শেষ আশার প্রদীপটি নিভে যায় রেফারি শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে৷

এভাবেই মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একবার নিজেদের ম্যাচে ভিএআরের সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত, আরেকবার অন্য ম্যাচের যোগ করা সময়ের অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় গোলে নকআউটের স্বপ্ন হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হলো ইরানকে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *