ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এবার নতুন ফ্রন্ট খুলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার (২৮ মার্চ) ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)।
হামলা ও প্রতিরক্ষা পরিস্থিতি: ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইয়েমেন থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত করার পর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হুতিদের একটি ড্রোন তেল আবিবের আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতায় রয়েছে ইসরায়েল।
বিশ্ব বাণিজ্যে বিপর্যয়ের শঙ্কা: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের ওপর হুতিদের এই হামলা বড় কোনো সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি না করলেও, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হবে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫-এর শুরু পর্যন্ত হুতিরা লোহিত সাগরে প্রায় ২০০টি হামলা চালিয়েছে, যার ফলে সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
হরমুজ ও বাব আল-মানদাব সংকট: যদি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং একই সাথে হুতিরা লোহিত সাগরের বাব আল-মানদাব পথটি রুদ্ধ করে, তবে বিশ্ব বাণিজ্যের দুটি প্রধান ধমনী একসাথে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়াসহ বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র- বিবিসি
