তিন দশক পর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (সালমান শাহ) মৃত্যুকান্ড হত্যা মামলা হিসেবে আদালত কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর সেই মামলার অন্যতম আসামি ও বিশিষ্ট খলঅভিনেতা আশরাফুল হক ডন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডনের বিদেশযাত্রায় পূর্ব থেকেই নিষেধাজ্ঞা ছিল এবং ইমিগ্রেশনের ‘স্টপ লিস্টে’ তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিমানবন্দরে তিনি উপস্থিত হলে ইমিগ্রেশন সার্ভারে তা ধরা পড়ে এবং পুলিশ তাকে সেখানে আটকে রাখে। খবর পেয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা দ্রুত বিমানবন্দরে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে মামলার স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায় সিআইডি।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি পরিকল্পিত হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানানো হলে অপমৃত্যুর পাশাপাশি হত্যার অভিযোগটিও সিআইডিকে যৌথভাবে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

তবে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করে। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সিআইডির সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করলে সালমান শাহর পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে সিএমএম আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে এটিকে সরাসরি ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের এই ঐতিহাসিক নির্দেশনার পরদিন, অর্থাৎ ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর।

উক্ত মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ মোট ১১ জনকে নামীয় এবং আরও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

দীর্ঘ ২৯ বছর পর অপমৃত্যু মামলা থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় রূপ নেওয়ার পর মামলার অন্যতম নামীয় আসামি অভিনেতা ডনের এই গ্রেপ্তার ও তাকে কারাগারে প্রেরণের আবেদন ঘটনাপ্রবাহে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *