যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদ ও নিখুঁত নিশানা হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরিভিত্তিতে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা শিল্পপতি ও ঠিকাদারদের ২১ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
শনিবার (৮ আগস্ট) পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ একটি স্মারকলিপির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
উপ-প্রতিরক্ষা সচিব স্টিভ ফাইনবার্গের স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বছরের পর বছর ধরে চলা দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্র উন্নয়ন ও উৎপাদন চক্র বর্তমান পরিস্থিতিতে আর গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে তাদের কর্মসূচির সময়সূচি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনীর ভূমি থেকে ভূমিতে (সারফেস-টু-সারফেস) নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অভিযানে ব্যবহার হয়ে গেছে। বিশেষ করে ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম’ (ATACMS) এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ (PrSM)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল অস্ত্রগুলোর মজুত এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জার্মান প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘রাইনমেটাল’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরমিন প্যাপারগার সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই খালি হয়ে যাওয়া অস্ত্রাগার পুনরায় পূর্ণ করতে অন্তত ২ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে। ঘাটতি মেটাতে রাইনমেটাল ও লকহিল যৌথভাবে উত্তর জার্মানিতে এটিএসিএমএস উৎপাদনের পরিকল্পনা করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অর্থায়ন ও স্থায়ী চুক্তি ছাড়া এই সংকট দ্রুত নিরসন সম্ভব নয়।
সংকট মোকাবেলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ কম খরচের যুদ্ধাস্ত্র এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন বাড়াতে নতুন স্টার্টআপ ও বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা করেছে। তবে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের পরিচালক টম কারাকো জানান, এসব সমঝোতা এখনও চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি নয়, ফলে বাস্তবায়ন নির্ভর করছে কংগ্রেসের অর্থ অনুমোদনের ওপর।
এদিকে অস্ত্রাগার খালি হওয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের মধ্যে মতবিরোধের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তা নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনও পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে। তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল স্মারকলিপির সত্যতা স্বীকার করে জানান, এটি ২০২৮ অর্থবছরের সামরিক বাজেট পুনর্গঠনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
