ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে বসতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন৷ সোমবার তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, একজন শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারীর অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এ ধরনের একটি বৈঠকে বসার প্রস্তাব পুতিনের পক্ষে প্রত্যাখ্যান করা ‘অনেক বেশি কঠিন’ হবে৷ আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে৷

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এখন এর চূড়ান্ত ফল কী দাঁড়ায়, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন৷

বিগত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের একাধিক প্রস্তাব পুতিন বারবার প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন৷ ইউক্রেনের নেতা এর আগে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, সোমবার ফ্রান্সে শুরু হওয়া জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করার যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, পুতিন তাও পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন৷

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা একটি বিশেষ ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি জানান, ‘রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি ত্রিপক্ষীয় বা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজন করা যেতে পারে, যেখানে ওয়াশিংটনের চাপের মুখে পুতিনের পক্ষে তা প্রত্যাখ্যান করা অনেক কঠিন হবে৷’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা দেখব এর ফল কী হয়৷ রাশিয়া যদি শান্তির এই সুযোগও প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করতে হবে৷’

জেলেনস্কি এর আগে বলেছিলেন যে, তিনি জি-৭ সম্মেলনের সময় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার প্রস্তাব দিলেও মস্কো ‘আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা শান্তির বিষয়ে কথা বলতে মোটেও রাজি নয়৷’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র এএফপিসহ কয়েকজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিককে জানিয়েছেন, এই বিশেষ প্রস্তাবটি কিছুদিন আগেই বিভিন্ন গোপন মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ক্রেমলিনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল৷ তবে সূত্রটি আরও জানায়, ‘রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট বা ইতিবাচক উত্তর দেওয়া হয়নি৷’

উল্লেখ্য, রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আক্রমণ শুরু করে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বুকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে৷ চলতি মাসের শুরুতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মুখোমুখি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করার পর, পুতিন কড়া ভাষায় বলেছিলেন যে— একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি আগে থেকে প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত, জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করার কোনো মানে বা যৌক্তিকতা নেই৷

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *