ইরানের সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করার অভিযোগে চীন ও হংকংয়ের ৯টি কোম্পানি এবং ব্যক্তির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন অর্থ ও পররাষ্ট্র দপ্তর যৌথভাবে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরকে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

মার্কিন অর্থ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব কোম্পানি ও ব্যক্তিরা ইরানের শাহেদ-সিরিজের ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করেছে। তেহরানের উৎপাদন ক্ষমতা পুনর্গঠন থেকে বিরত রাখতে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা কমাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াশিংটন জানিয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে এলো যখন লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়ে। আবসিডিয়ান রিস্ক অ্যাডভাইজারসের ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ ও আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য ইরানের সক্ষমতা দমন করাই ছিল ট্রেজারির এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে এই সিদ্ধান্তকে বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের নিষেধাজ্ঞা এখনও সীমিত পরিসরে রাখা হয়েছে। কারণ, ইরানের অর্থনীতি সচল রাখা বড় চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এখনও কোনো সরাসরি ব্যবস্থা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে ড্রোন উৎপাদনের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তেহরানের প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ওয়াশিংটন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে সহায়তাকারী যে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে তারা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *