অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিলের প্রথম মুসলিম নারী মেয়র হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন লেবানিজ বংশোদ্ভূত অসি রাজনীতিবিদ ওলা হামেদ। একই সঙ্গে ইতিহাস গড়া ঐতিহাসিক দিনটিতে এক বর্ণাঢ্য নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৬২৮ জন অভিবাসী আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কাম্বারল্যান্ডে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও কাউন্সিলরদের নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী ওলা হামেদের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়।
ঐতিহাসিক নির্বাচন ও কাউন্সিলরদের সমর্থন:
২০২৪–২০২৮ মেয়াদের কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হয়ে লেবানিজ বংশোদ্ভূত প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। নির্বাচনে ওলা হামেদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ‘আওয়ার লোকাল কমিউনিটি’ দলের অভিজ্ঞ কাউন্সিলর পল গ্যারার্ড।
কাউন্সিলের ১৩ জন কাউন্সিলরের ভোটাভুটিতে ওলা হামেদ নিজের দল লেবার পার্টির ৫ জন, গ্রিনস দলের সুজান সেলভেন এবং লিবারেল পার্টির ৪ জন কাউন্সিলরের জোরালো সমর্থনে মোট ৮টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অপরদিকে গ্যারার্ড পান মাত্র ২ ভোট।
নতুন নাগরিকদের স্বাগতম ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান:
বিজয় ও দায়িত্ব গ্রহণের পর কাম্বারল্যান্ডের নতুন নাগরিকদের অভিনন্দন জানিয়ে মেয়র ওলা হামেদ বলেন, “লেবানিজ বংশোদ্ভূত প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে এই দায়িত্ব পেয়ে আমি চরম সম্মানিত। আজ আমরা ৬২৮ জন নতুন সদস্যকে অস্ট্রেলিয়ান পরিবারে স্বাগত জানিয়েছি। তাঁদের জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য ও অবদান আমাদের সমাজকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী করবে।”
রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি বলেন, “নাগরিক নেতৃত্বের মূল প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত ঐক্য। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই, তবে স্থানীয় মানুষের পরিষেবায় আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি ও বহুমাত্রিক সমাজ:
উক্ত নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনবিদ ও সাবেক বিচারক এলিজাবেথ এভাট এসি এবং লিগ্যাল এইডের রিফিউজি টিমের প্রতিনিধি রবিন টাপম্যান।
ওলা হামেদের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন এবং নতুন ৬২৮ জনের নাগরিকত্ব গ্রহণ অস্ট্রেলিয়ার বহুমাত্রিক সংস্কৃতি, অভিবাসী অধিকার এবং স্থানীয় সরকারে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
মন্তব্য করুন