চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, ড্রামট্রাক, মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে এক ভয়াবহ চতুর্মুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী পথচারী পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন গাড়ির যাত্রী ও পথচারীসহ অন্তত ২৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
গত রবিবার (৩১ মে) রাত ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই নারীর নাম জারিয়া বেগম (৪৫)। তিনি সীতাকুণ্ডের স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল আলমের স্ত্রী।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী ‘সৌদিয়া পরিবহনের’ একটি যাত্রীবাহী বাস বেপরোয়া গতিতে বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় মহাসড়কে আকস্মিক উঠে পড়া একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসকে বাসটি পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কা ও তীব্র গতির কারণে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারী নারী জারিয়া বেগম বাসের চাকায় পিষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেওয়ার পর সৌদিয়া পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে আচমকা থেমে যায়। ঠিক তখনই একই দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ড্রামট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থেমে থাকা বাসের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে। এরপর ড্রামট্রাকটি মহাসড়ক থেকে সাইড করতে গিয়ে রাস্তার পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে সিএনজিটি মুহূর্তে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ড্রামট্রাকটি সিএনজিকে ঠেলে সড়কের পাশে থাকা ‘মোহাম্মদী বেকারি’ নামের একটি দোকানের ভেতরে আংশিক ঢুকে পড়ে। এই ধারাবাহিক চতুর্মুখী সংঘর্ষে বাস, মাইক্রোবাস ও সিএনজির যাত্রীসহ ২৫ জন মারাত্মকভাবে জখম হন।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং কুমিরা ও সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলোর ভেতর থেকে রক্তাক্ত ও আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে দুর্ঘটনাকবলিত সৌদিয়া পরিবহনের বাস, মাইক্রোবাস, ড্রামট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশাটি ক্রেন দিয়ে সরিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে হাইওয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
