দেশে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) থেকে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা গৃহীত হয়।
সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন ও স্বেচ্ছাসেবী সম্পৃক্ততা:
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল ওষুধ ছিটানো বা প্রথাগত মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে। এজন্য মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন।
এই অভিযানের আওতায় প্রতি শনিবার বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা একযোগে মাঠে নামবেন। তারা বিভিন্ন বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় গিয়ে জমা পানি অপসারণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণে কাজ করবেন।
টেলিভিশন ও সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার:
মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এডিস মশা প্রতিরোধ নির্দেশিকা নিয়মিত প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় স্বাস্হ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন