কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ এবং তা ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী কর্মকর্তা রেজায়ি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা “হরমুজ প্রণালি এখনো খোলা রয়েছে”—এমন দাবিকে সরাসরি ‘বড় ধরনের মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি জানান, ইরান ও ওমানের মধ্যে নতুন একটি বিশেষ নৌপথ চালুর বিষয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি সই হতে পারে। প্রস্তাবিত সেই নতুন সমুদ্রপথের প্রবেশ ও বের হওয়ার মূল পথসমূহ সম্পূর্ণভাবে ইরানের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
জাহাজ চলাচল ও অর্থনৈতিক আঘাত:
রেজায়ি প্রণালির বর্তমান ও পূর্বের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “প্রণালি বন্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১০০টিরও বেশি জাহাজে ১০ কোটি টনের অধিক পণ্য পরিবাহিত হতো। অথচ বর্তমানে ইরানের নিজস্ব প্রয়োজনে আসা মাত্র ৭ থেকে ৮টি জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে তাদের ৫-৬টি জাহাজ পার করার চেষ্টা করছে, যেগুলোর ওপর অধিকাংশ সময়েই হামলা চালানো হচ্ছে। তবে পরিবেশগত বিপর্যয় এড়াতে তেলবাহী জাহাজগুলো ডুবিয়ে না দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা:
উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন উপস্থিতিকে চ্যালেন্জ জানিয়ে রেজায়ি দাবি করেন, গত ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর ইরান তাদের নতুন প্রযুক্তির জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, “এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আমেরিকান বাহিনীর জন্য পরিস্থিতিকে নরকতুল্য করে তুলেছিল এবং তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।”
আমেরিকান অবরোধ ও দুর্ভিক্ষ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া:
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে—পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের এমন প্রচারণাকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেন রেজায়ি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান সরকার অনেক আগে থেকেই এমন পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। পরবর্তীতে গত জুনে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি সমঝোতা স্মারক সই হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ব্যর্থতায় হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক সামরিক উত্তেজনা বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে।
মন্তব্য করুন