পল্লবীতে ২য় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা: আজ দুই আসামির ভাগ্য নির্ধারণ

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ (১ জুন) সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে কি-না, সে বিষয়ে আজ আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে মামলাটি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ফ্ল্যাটে ডেকে নেন। সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করলে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতর তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে আটক স্বপ্নার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তার স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথাটি শরীর থেকে আলাদা করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ এসে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকেও আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *