সীমান্ত সংঘাতের জেরে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা এম আসিফ তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই কড়া হুঁশিয়ারি ও যুদ্ধের ঘোষণা দেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা এম আসিফ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে কূটনৈতিক পথে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়েছে। তিনি বলেন:
“পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। আমরা পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছি, কিন্তু এবার আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এবার আমাদের এবং আপনাদের (তালেবান সরকার) মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হবে।”
শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহর কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিকা প্রদেশে অতর্কিত বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী। পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই অভিযানের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, যারা পাকিস্তানের শান্তিকে দুর্বলতা ভাববে, তাদের কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জবাব ছিল সর্বাত্মক ও দৃঢ়। কেউই আমাদের নাগালের বাইরে থাকবে না।”
এদিকে পাকিস্তান বিমান হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার দাবি করেছে আফগান তালেবান সরকার। তারা জানিয়েছে, সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা নতুন করে হামলা শুরু করেছে।
সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই পাকিস্তানের এই সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, “আফগানরা পূর্ণ ঐক্যের মাধ্যমে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে এবং সাহসের সঙ্গে এই আগ্রাসনের জবাব দেবে।”
গত অক্টোবর মাসে একাধিক মারাত্মক সংঘর্ষের পর দুই দেশ একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবারের এই বিমান হামলা ও আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে সেই শান্তি প্রক্রিয়া পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেল। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
