ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ রাশিয়ার অন্তত ৩ লাখ ৫২ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৯ মে) রাশিয়ার নির্বাসিত গণমাধ্যম ‘মেদুজা’ ও ‘মিডিয়াজোনা’র এক যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
মেদুজা ও মিডিয়াজোনার এই পরিসংখ্যানটি রাশিয়ার উত্তরাধিকার রেজিস্ট্রি (Probate Registry) এবং আদালতের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিহতের এই সংখ্যায় চলতি ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া বিদেশি যোদ্ধা এবং অধিকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করা মিলিশিয়া বাহিনীর সঠিক নিহতের সংখ্যা এখানে পুরোপুরি আসেনি, ফলে প্রকৃত প্রাণহানি আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS) চলতি বছরের শুরুতে জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই যুদ্ধে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার রুশ সেনা এবং ১ লাখ ৪০ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। মেদুজার নতুন প্রতিবেদন সেই পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে গেছে।
রণাঙ্গনে সেনাসঙ্কট মেটাতে ক্রেমলিন এখন নতুন পন্থার দিকে ঝুঁকছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো এখন আফ্রিকা এবং বিশ্বের অন্যান্য দরিদ্র অঞ্চল থেকে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে যোদ্ধা আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ছাড়াও রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রদের বড় একটি অংশকে ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ড্রোন বাহিনীকে শক্তিশালী করতেই এই নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইউক্রেন যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে উভয় পক্ষই চরম মানবিক ও সামরিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন, যা বিশ্ব রাজনীতির স্থিতিশীলতাকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
