ইয়েমেনে আমিরাতের গোপন কারাগারের সন্ধান!

  • গত ৩ জানুয়ারি ইয়েমেনের সরকারপন্থি বাহিনী হাদরামাউতের মুকাল্লা শহরে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত এসটিসি’র বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

ইয়েমেনের বন্দরনগরী মুকাল্লার কাছাকাছি এলাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি গোপন কারাগার চালাচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। লন্ডনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর–এর বরাতে বিষয়টি জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশের মুকাল্লা শহরের নিকটবর্তী আল-রাইয়ান বিমানঘাঁটিতে এই গোপন আটককেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে বলে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার দাবি করেছে। হাদরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, উক্ত এলাকায় বিস্ফোরক ও বুবি ট্র্যাপের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সহায়তার নামে গঠিত জোটের ঘোষিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, আমিরাত-পরিচালিত একাধিক গোপন কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং এসব অভিযোগ নথিভুক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ইয়েমেন সরকারের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আবুধাবি জানায়, হাদরামাউতের গভর্নরের মন্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। আমিরাতের দাবি, যেসব স্থাপনার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আসলে সামরিক আবাসন, অপারেশন কক্ষ এবং সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র। এসব স্থাপনার কিছু অংশ ভূগর্ভে অবস্থিত, যা বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটির ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী একটি সাধারণ বিষয়—এতে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই।

এদিকে চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ইয়েমেনের মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে দেশটিতে নতুন করে ৩০০ জনের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।

আইওএম সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা, সংঘাত এবং জীবনযাত্রার অবনতির ফলে এই বাস্তুচ্যুতি ইয়েমেনের দুর্বল ত্রাণ ও সহায়তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। মানবিক সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, সামনে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী আল-জিন্দানি রিয়াদে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। মার্কিন পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইয়েমেনের সংকট মোকাবিলা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ওয়াশিংটন ও সানা একযোগে কাজ চালিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *