ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দেশটিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক সাইবার অভিযান। ইরানের একাধিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলো এই সাইবার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং বিবিসি মনিটরিংয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘ব্যাপক আকারে’ শুরু হওয়া এই সাইবার অভিযানে ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বর্তমানে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA) এবং আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা (ISNA)-এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।
এছাড়াও তাসনিম নিউজ এজেন্সি, পার্স নিউজ এজেন্সি এবং মেহের নিউজ এজেন্সির ওয়েবসাইটগুলোও ইরানের বাইরে থেকে অ্যাক্সেস করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিবিসি মনিটরিং।
কেবল সংবাদমাধ্যম নয়, ইরানে বহুল ব্যবহৃত বেশ কিছু অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ও গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিষেবার কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে এই সাইবার হামলার সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি বা এর নেপথ্যে কোন দেশের হ্যাকাররা রয়েছে, সে সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
সাইবার স্পেস বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ইরানকে তথ্যগতভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতেই এই সমন্বিত সাইবার আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এটি আধুনিক যুদ্ধের একটি কৌশল হিসেবে পরিচিত, যেখানে সামরিক শক্তির পাশাপাশি ডিজিটাল পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
এখন পর্যন্ত ইরান এই সাইবার বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়নি এবং দেশটির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
