দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ১৬৫ ছাত্রী ও স্কুল কর্মীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবারের (২৮ ফেব্রুয়ারি) ওই হামলাটি ছিল ইরানের বিরুদ্ধে দেশ দুটির যৌথ অভিযানের প্রথম দিন, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শনিবার মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়। তেহরান এই হামলার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে দায়ী করেছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “দুই দেশ নির্বিচারে আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল, স্কুল, রেড ক্রিসেন্ট স্থাপনা কিংবা সাংস্কৃতিক নিদর্শন—কোনোটিই রেহাই পাচ্ছে না।”
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, ওই এলাকায় তাদের কোনো হামলার বিষয়ে তারা অবগত নয়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজায় বেসামরিকদের ওপর হামলার ক্ষেত্রেও ইসরায়েল শুরুতে দায় অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে প্রমাণ সাপেক্ষে সেগুলোকে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার নজির রয়েছে।
মিনাবের এই নৃশংস ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের মতো বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা চালানো স্পষ্টত ‘যুদ্ধাপরাধ’।
এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দাফন অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি শোককে ক্ষোভে পরিণত করেছে।
