দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনার মাঝে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছে লেবানন। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে দেশজুড়ে চলমান সংঘাত বন্ধে কার্যকর যুদ্ধবিরতির শর্ত দিয়েছেন লেবাননের নেতারা। শনিবার (১৪ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
লেবাননের এই প্রস্তাবের পর কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আলোচনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী রন ডার্মারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ফ্রান্সের প্যারিস বা সাইপ্রাসের নাম আলোচনায় আসছে।
গুঞ্জন রয়েছে, কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ফ্রান্সই শান্তি পরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছে। শান্তি আলোচনার শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গ থাকতে পারে। তবে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের কোনো প্রস্তাবের কথা অস্বীকার করেছে। এদিকে, লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি সরাসরি আলোচনায় সম্মতির কথা জানালেও তিনি ‘আগে যুদ্ধবিরতি’র ওপর অনড় অবস্থানে রয়েছেন। হিজবুল্লাহর মিত্র হিসেবে পরিচিত নাবিহ বেরির রাজনৈতিক অবস্থান এই আলোচনার পথে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কূটনৈতিক আলোচনার এই সম্ভাবনার মধ্যেই ইসরায়েল ২০০৬ সালের পর লেবাননে সবচেয়ে বড় স্থল অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে রেখেছে। ফলে এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত সফল হবে নাকি সংঘাত আরও তীব্রতর হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা কাটছে না।
