যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বিপাক্ষিক সংকটের সমাধানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তবে এর জন্য পূর্বশর্ত হিসেবে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই দেশটির ওপর থেকে অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। বুধবার (২২ এপ্রিল) তেহরানের পক্ষ থেকে এই অবস্থানের কথা জানানো হয়।
আলজাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, তেহরান থেকে আসা বার্তাগুলো বর্তমানে মিশ্র। কখনো ইতিবাচক সংকেত মিললেও পরক্ষণেই তা নেতিবাচক রূপ নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে একমাত্র নিশ্চিত বিষয়টি হলো ‘অনিশ্চয়তা’।
বর্তমান এই জটিল পরিস্থিতিকে তিনটি প্রধান স্তম্ভের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে:-
১. অস্পষ্টতা: আলোচনার সময়সীমা শেষ হয়ে আসলেও নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও যুদ্ধের ঝুঁকি এখনও কাটেনি।
২. ভঙ্গুরতা: পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনায় এটি ভেঙে পড়তে পারে।
৩. জটিলতা: যুদ্ধবিরতি বাড়লেও নেপথ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক কর্মসূচি, জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির মতো কঠিন ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক এখন আর কেবল ‘অবিশ্বাসের’ পর্যায়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের ঘনিষ্ঠতার প্রচেষ্টাকে এখন চরম সন্দেহের চোখে দেখছে ইরান সরকার। তেহরানের সাফ কথা—নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে কোনো অর্থবহ আলোচনায় অংশ নেবে না তারা।
