এক সপ্তাহে ২ কোটি ফলোয়ার! মোদী সরকারকে কাঁপিয়ে দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডিজিটাল দমনপীড়ন

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে ব্যঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলা এক অনলাইন রাজনৈতিক আন্দোলনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের এই তুমুল জনপ্রিয় ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে গতকাল শনিবার এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, সরকার তাদের ‘আইকনিক’ ওয়েবসাইটটি ইন্টারনেট থেকে মুছে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিৎ মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই অভিনব ওয়েবসাইট এবং এর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো চালু করেছিলেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই আন্দোলনের জন্ম। চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রধান বিচারপতি দেশের বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। যদিও তীব্র সমালোচনার মুখে পরে তিনি সুর নরম করে ব্যাখ্যা দেন, তাঁর মন্তব্যটি আসলে জাল বা ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যে ছিল এবং দেশের যুবসমাজ মূলত ‘উন্নত ভারতের স্তম্ভ’।

প্রধান বিচারপতির সেই মন্তব্যকে কটাক্ষ করেই অভিজিৎ গঠন করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), যা স্পষ্টতই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ বা বিজেপির নামের সঙ্গে একটি চতুর রসিকতা। মাত্র এক সপ্তাহে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম পেজটি ২ কোটি ২০ লাখের (২২ মিলিয়ন) বেশি ফলোয়ার পেয়ে অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছে। যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হওয়ার দাবিদার বিজেপির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ৯০ লাখের (৯ মিলিয়ন) কিছু বেশি। অর্থাৎ, জনপ্রিয়তার দৌড়ে মোদীর আসল দলকে বহু পেছনে ফেলে দিয়েছে এই নকল ‘তেলাপোকা’ দল!

অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, ওয়েবসাইট বন্ধ করার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং সিজেপির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজটিও হ্যাক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাত্র সাত দিনে প্রায় ১০ লাখ মানুষ তাঁদের এই অভিনব আন্দোলনে সশরীরে ও ডিজিটালভাবে যোগ দিয়েছেন।

বর্তমানে এই গ্রুপটি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে। সরকারি মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কেলেঙ্কারিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জেরে ইতিমধ্যে প্রায় ছয় লাখ মানুষ সিজেপির গণস্বাক্ষর পিটিশনে সই করেছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে অভিজিৎ বলেছিলেন, “ক্ষমতায় যারা বসে আছেন, তারা সাধারণ নাগরিকদের তেলাপোকা আর পরজীবী মনে করেন। তাদের জেনে রাখা উচিত যে, তেলাপোকা কিন্তু পচা আর নোংরা জায়গাতেই বংশবৃদ্ধি করে। আর আজকের ভারতের পরিস্থিতিও ঠিক তেমনটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

এক ‘তেলাপোকা’র ডাকে যেভাবে কোটি কোটি তরুণ মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে একজোট হচ্ছিল, তাতেই দিল্লির ক্ষমতার মসনদ নড়েচড়ে বসেছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। আর সেই ভয়ের কারণেই এই ডিজিটাল দমনপীড়ন কি না, তা নিয়ে এখন নেটপাড়ায় চলছে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *