আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটের সীমান্ত এলাকাগুলোতে উৎসবের আমেজের চেয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বেশি বিরাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা ভারতীয় গরু ও মহিষের জোয়ারে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় খামারি এবং পশুর হাটের ইজারাদাররা। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে সীমান্ত পেরিয়ে এসব পশু নির্বিঘ্নে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেটের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত উপজেলাগুলো এখন চোরাকারবারিদের মূল রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শত শত ভারতীয় গরু ও মহিষ অবৈধ পথে বাংলাদেশে ঢুকছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের চেকপোস্টের সামনে দিয়েই পশুর গাড়ি চলে যায়, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে সাধারণ মানুষ এ নিয়ে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছে না।
অবাধে ভারতীয় পশু প্রবেশের ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সিলেটের হাজারো প্রান্তিক খামারি। বছরজুড়ে ধার-দেনা করে পশু লালন-পালন করার পর, এখন ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তারা চরম সংশয়ে দিন কাটাচ্ছেন। জুনেল আহমদ নামে এক খামারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সারা বছর কষ্ট করে গরু বড় করলাম লাভের আশায়। এখন ভারতীয় গরুতে বাজার সয়লাব। আমাদের আসল টাকা উঠবে কি না, তা নিয়েই আমরা চিন্তিত।”
শুধু খামারিরাই নন, লোকসানের আশঙ্কায় আছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৫টিসহ জেলার অর্ধশতাধিক পশুর হাটের ইজারাদাররা। তারা বলছেন, অবৈধ পশুর কারণে বৈধ হাটে ক্রেতা কমছে, যা সরকারি রাজস্ব আদায়কেও ব্যাহত করছে।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিলেট জেলা পুলিশ। সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান বলেন, “চোরাচালান দমনে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। পশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনের এমন আশ্বাসের পরও মাঠপর্যায়ে চোরাচালানি চক্রের দৌরাত্ম্য কমেনি। ঈদের আনন্দ যখন দুয়ারে, তখন সিলেটের খামারিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি—দেশীয় খামারি ও ইজারাদারদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত থেকে শুরু করে পশুর হাট পর্যন্ত প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান নজরদারি এখন সময়ের দাবি।
