মানবাধিকার কর্মী ও প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেকের অবস্থান ও আচরণ বদলে যায়, যা মানবাধিকার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি। সোমবার (৬ এপ্রিল) ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে শহিদুল আলম গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ স্থগিত এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এসব সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক।” বিচার বিভাগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগের মতো আদালতের সেই স্বাধীনতা ও সাহস এখন আর দেখা যাচ্ছে না।
ক্রসফায়ার সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো নতুন বিষয় নয়; বিভিন্ন সরকারের আমলে ভিন্ন ভিন্ন নামে এটি চর্চিত হয়েছে। ২০০৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ক্রসফায়ারের অস্তিত্ব অস্বীকার করার বিষয়টিও তিনি মনে করিয়ে দেন। এছাড়া গোপন নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’গুলো অবিলম্বে পরিদর্শন এবং সেখানে হওয়া নির্যাতনের বাস্তবতা জনগণের সামনে আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এমন অমানবিক ব্যবস্থা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
দেশীয় পরিস্থিতির পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এই মানবাধিকার কর্মী।
