চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীশূন্য ৬৮ কারিগরি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল হচ্ছে, নতুন ভর্তি স্থগিত

বছরের পর বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এবং কারিগরি শিক্ষার মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় চট্টগ্রামের মোট ৬৮টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন ও স্বীকৃতি বাতিলের চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড৷ বোর্ডের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে চলমান ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে এসব অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে নতুন কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আগামী নির্দিষ্ট কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়েছে৷

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে অনুমোদন বাতিলের প্রক্রিয়াধীন থাকা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে৷

নীতিমালা-২০২৪ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা: কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়— বছরের পর বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অকার্যকর ও ভুতুড়ে ভবনে পরিণত হয়েছে৷ এ অবস্থায় ‘বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা–২০২৪’ অনুযায়ী এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷

নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে— নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, সন্তোষজনক ফলাফল, নিজস্ব অবকাঠামো, যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, কার্যকর ব্যবস্থাপনা কমিটি, প্রয়োজনীয় ল্যাব যন্ত্রপাতি ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরিসহ অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে বোর্ড যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে৷

পৃথক শোকজ ও লিখিত জবাবের ডেডলাইন: এই শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৪, ৮, ১৮ ও ২৪ জুন পৃথকভাবে এসএসসি (ভোকেশনাল), দাখিল (ভোকেশনাল), ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা) কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের দফায় দফায় শোকজ করা হয়েছে৷

নতুন নির্দেশনায় এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে এবং ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ৩০ জুনের মধ্যে বোর্ডের নিকট লিখিত ব্যাখ্যা বা সন্তোষজনক জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে৷

চট্টগ্রাম ও পাহাড়ের যত প্রতিষ্ঠান বাতিলের তালিকায়: চট্টগ্রাম বিভাগে পাঠদান অনুমোদন বাতিলের তালিকায় রয়েছে মোট ৬৮টি প্রতিষ্ঠান৷ এর মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল) পর্যায়ের ১০টি বিদ্যালয়, দাখিল (ভোকেশনাল) পর্যায়ের ৩টি মাদ্রাসা, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ২টি কলেজ এবং জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা) কোর্স পরিচালনাকারী ৫৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷ এ ছাড়া একই কারণে পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজার, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির আরও ৪৪টি কারিগরি প্রতিষ্ঠানও এই বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে৷

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মো. আল মাসুদ করিম জানান— দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এবং নীতিমালার মৌলিক শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ প্রতিষ্ঠানগুলোর লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে চূড়ান্তভাবে পাঠদান অনুমোদন বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷

সারাদেশে ১ হাজার ৮৫৩ প্রতিষ্ঠানে ডানা মেলল শোকজ: শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে— একই কারণে সারা দেশের মোট ১ হাজার ৮৫৩টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ করেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড৷ এর মধ্যে রয়েছে ৪৪৩টি এসএসসি (ভোকেশনাল), ১৭৮টি দাখিল (ভোকেশনাল), ১২০টি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১২টি ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল, ১৫টি ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার এবং ১ হাজার ৮৫টি জাতীয় দক্ষতামান বেসিক কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান৷ বোর্ডের কঠোর ভাষ্য— দেশের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং ‘কাগুজে’ ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলোর দৌরাত্ম্য বন্ধ করতেই এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *