লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে একটি নতুন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিন পরই আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ লেবানন৷ রোববার (২৮ জুন) দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর এক বীর যোদ্ধার সাথে সরাসরি ও মুখোমুখি বন্দুকযুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) এক শীর্ষ ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন৷ এই ঘটনায় আরও এক ইসরাইলি সেনা গুরুতর আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে তেল আবিব৷
রোববার স্থানীয় সময় দুপুরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিহত সেই সেনা কর্মকর্তার ছবি ও আনুষ্ঠানিক পরিচয় প্রকাশ করেছে৷ আইডিএফ জানায়— নিহত ওই কর্মকর্তার নাম ক্যাপ্টেন ডেভিড হাজুত৷
যেভাবে ঘটল এই বন্দুকযুদ্ধ: ইসরাইলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে— দক্ষিণ লেবাননের দেইর সেরিয়ান এলাকার কাছে একটি সন্দেহজনক স্থাপনার ভেতরে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালাতে প্রবেশ করছিল ইসরাইলি কমান্ডোদের একটি দল৷ ওই স্থাপনায় প্রবেশ করার সময় সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া হিজবুল্লাহর এক দক্ষ যোদ্ধার মুখোমুখি হন তারা৷ এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়৷ ঘটনাস্থলেই ক্যাপ্টেন ডেভিড হাজুত গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং তার সাথে থাকা অন্য এক ইসরাইলি সেনা সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হন৷
সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে— চার মাস আগে এই সীমান্ত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ লেবানন এবং উত্তর ইসরায়েলের ফ্রন্টলাইনে হিজবুল্লাহর হামলায় এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মোট ৩৮ জন নিয়মিত সেনা ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন৷
সমঝোতার মাঝেই নতুন করে বিমান হামলা: আইডিএফ জানিয়েছে— রোববার স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত হামলাকারী হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে জীবিত অথবা মৃত ধরতে দেইর সেরিয়ান ও তার আশপাশের পুরো সীমান্ত এলাকায় বিশাল চিরুনি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে৷ এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরাইলি বিমানবাহিনী ও গোলন্দাজ ইউনিট ওই এলাকায় নতুন করে একাধিক বিমান ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ করেছে, যা পুরো অঞ্চলের যুদ্ধবিরতির পরিবেশকে আবারও হুমকির মুখে ফেলেছে৷
অথচ, গত শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যের বুকে একটি বিস্তৃত ও স্থায়ী শান্তিচুক্তির প্রথম রূপরেখা বা প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করছে পশ্চিমা বিশ্ব৷ ওই ঐতিহাসিক চুক্তির প্রধান শর্ত বা আওতার মধ্যেই উল্লেখ ছিল— হিজবুল্লাহর সাথে দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ চলমান থাকা দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি অগ্রবর্তী সীমান্ত এলাকা থেকে পর্যায়ক্রমে নিজেদের সব সেনা প্রত্যাহার করে নিতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল৷ তবে চুক্তি সম্পাদনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় এই সেনাপাত ও পাল্টা বিমান হামলা ওয়াশিংটন সমঝোতার ভবিষ্যৎকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷
সূত্র : সিএনএন
