আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দলের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও আরও একবার আক্ষেপের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে৷ ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে শেষ ওভারের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে ৪ উইকেটের ব্যবধানে হার স্বীকার করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল৷ শেষ ওভারে মাত্র ৫ রানের পুঁজি নিয়েও দলের সেরা বোলার মারুফা আক্তারের ওপর ভরসা রেখেছিলেন অধিনায়ক, তবে প্রথম বলেই বাউন্ডারি হজম করায় ম্যাচটি টাইগ্রেসদের হাত থেকে ফসকে যায়৷
সুবহানা মোস্তারি ও নিগার সুলতানা জ্যোতির লড়াকু ব্যাটিং: এর আগে লর্ডসে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি৷ তবে ব্যাটিংয়ের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি টাইগ্রেসদের৷ দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার মারিজায়ানা কাপের করা ইনিংসের প্রথম বলেই দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস৷ আরেক ওপেনার তাজনেহারও সুবিধা করতে পারেননি, তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১ রান৷
মাত্র ২ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে দল যখন চরম বিপর্যয়ে, তখন ধীরলয়ে দলের হাল ধরেন সুবহানা মোস্তারি ও শারমিন আক্তার৷ মাঝের ওভারে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে ব্যক্তিগত ২২ রানে (২৯ বল) ফেরেন শারমিন৷ তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪২ রানের (৪৮ বল) দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন সুবহানা মোস্তারি৷ শেষদিকে ডেথ ওভারে দুর্দান্ত ঝড় তোলেন অধিনায়ক জ্যোতি৷ তার ২০ বলে খেলা ক্যামিও ৩২ রানের ইনিংসে ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৭ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ৷
মারুফার স্বপ্নের শুরু ও নাহিদার জোড়া উইকেট: ১১৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম বলেই কাঁপিয়ে দেন বাংলাদেশের পেস সেনসেশন মারুফা আক্তার৷ ইনিংসের প্রথম বলেই প্রোটিয়া তারকা ওপেনার লরা উলভার্টকে ক্লিন বোল্ড করে দুর্দান্ত এক সূচনা এনে দেন তিনি৷ শুরুর ধাক্কা সামলে তাজমিন ব্রিটস ও আনেরিন ড্রেকসনরা উইকেটে থিতু হলেও টাইগ্রেস বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে হাত খুলে শট খেলতে পারেননি৷ ব্রিটস ২০ রান (২৪ বল) এবং ড্রেকসন সর্বোচ্চ ৪৫ রান (৪৫ বল) করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন৷
বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ২৪ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন স্পিনার নাহিদা আক্তার৷ এ ছাড়া রিতু মণি, মারুফা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলা একটি করে উইকেট নিয়ে ম্যাচ শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান৷
