‘চুক্তি ভাঙলে আগের চেয়েও ভয়াবহ জবাব পাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল’: আইআরজিসি মুখপাত্রের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং হরমুজ প্রণালির ৩০ দিনের একক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার ঘোষণার মাঝেই এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)৷ বাহিনীটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে— ওয়াশিংটন কিংবা তেল আবিব যদি ভবিষ্যতে চলমান কোনো যুদ্ধবিরতি বা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি সামান্যতম লঙ্ঘন করার চেষ্টা করে, তবে ইরান তাদের বিরুদ্ধে অতীতে যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী ও কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাবে৷

আজ রোববার (২৮ জুন) আইআরজিসির অফিশিয়াল মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি তেহরানে এক বিশেষ সামরিক বিবৃতিতে এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন৷

‘শত্রু কখনোই নির্ভরযোগ্য নয়’: আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন— “ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতে যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ ও আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও মাতৃভূমি রক্ষায় তা অব্যাহত থাকবে৷ শত্রু যখনই কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করবে, তখনই তারা আগের চেয়েও অত্যন্ত কঠোর ও ধ্বংসাত্মক জবাব পাবে৷ যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে যে, তারা কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা শান্তি প্রক্রিয়া মেনে চলার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র নির্ভরযোগ্য রাষ্ট্র নয়৷”

মোহেবি আরও সতর্ক করে বলেন— “প্রত্যাশিতভাবেই আমাদের প্রধান শত্রু নির্ভরযোগ্য নয়৷ ইরান যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত রয়েছে, ঠিক তখনো শত্রুপক্ষ সুকৌশলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে৷” তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান— ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি বর্তমানে সর্বোচ্চ যুদ্ধ প্রস্তুতি ও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসনের জবাব হবে সম্পূর্ণ ‘নির্ধারিত ও সিদ্ধান্তমূলক’৷

পারস্য উপসাগরে সামরিক উত্তেজনা ও সেন্টকমের দাবি: এই চরম বাকযুদ্ধের ঠিক আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক জরুরি বিবৃতিতে ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে হামলার খবর নিশ্চিত করে৷ মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী— পারস্য উপসাগরে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের দিক থেকে হামলার জবাবেই তারা এই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে৷ অন্যদিকে আইআরজিসির নৌবাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে— গত শুক্রবার তারা হরমুজ প্রণালিতে অবৈধভাবে প্রবেশকারী একটি সন্দেহভাজন জাহাজকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে সতর্ক করতে এবং থামার সংকেত দিতে ফাঁকা গুলি ছুড়েছিল মাত্র৷

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগত বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের দীর্ঘদিনের অবৈধ ও একতরফা নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে৷ তবে চুক্তি ও বন্দর সচল হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মাঝেই ওয়াশিংটন-তেহরানের এই নতুন সামরিক উত্তেজনা ও আইআরজিসির কড়া আলটিমেটাম মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন বারুদের স্তূপে পরিণত করেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *