চট্টগ্রামে সিএমপির বড় অ্যাকশন: শুরু হলো বিশেষ ‘এস-ড্রাইভ’ অভিযান

নগরের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুঃসাহসিক সশস্ত্র হামলার পর নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। অপরাধীদের ধরতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বন্দরনগরীজুড়ে একযোগে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ বা ‘এস-ড্রাইভ’।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এই সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দেন।

পুলিশ প্রবিধানের ৩৭৮(ঘ) ধারা অনুযায়ী, ‘এস-ড্রাইভ’ হলো একটি যুগপৎ অভিযান। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো—শহরের একাধিক অপরাধী আস্তানায় একই সময়ে হানা দেওয়া, যাতে এক জায়গার অপরাধীরা অন্য জায়গায় পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না পায়। সিএমপির ওসি থেকে শুরু করে অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার সব কর্মকর্তা এই অভিযানে সরাসরি মাঠে থাকছেন।

গত শনিবার সকালে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবনে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। পুলিশের পাহারার মধ্যেই এমন ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই সিএমপি এই বিশেষ অভিযানে নেমেছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো সম্ভবত শহরের বাইরে থেকে আনা হয়নি, বরং কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ ধারণা করছে, এই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রগুলো পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে। অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের সম্ভাব্য আস্তানাগুলোতে তল্লাশি চলছে।

নগর পুলিশের সূত্রমতে, পুরো চট্টগ্রাম মহানগরীকে ১০টি জোনে ভাগ করে ১০টি বিশেষ দল এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। নগরের প্রতিটি প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে কড়া চেকপোস্ট। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও অভিযান চালানো হচ্ছে।

সিএমপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই ‘এস-ড্রাইভ’ অব্যাহত থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এবং ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *