দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ (রেডিয়েশন) জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা বুয়েটের মাধ্যমে গবেষণা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাসপাতালের মতো জনসমাগমস্থল থেকে মোবাইল টাওয়ার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আদালতের আগের নির্দেশনা গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিটিআরসিকে এই গবেষণা প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি জানান, বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসানের দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী বিটিআরসি একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই গবেষণা পরিচালনা করবে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় টাওয়ারের বিকিরণের ফলে মানুষ, পশু-পাখি ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করাই এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।
এর আগে ২০১৯ সালে এক রায়ে হাইকোর্ট জনসমাগমস্থলে টাওয়ার স্থাপন না করার গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বিটিআরসি আগের বিকিরণ মাত্রা বহাল রেখে প্রতিবেদন দাখিল করলে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ (এইচআরপিবি) আপত্তি জানায়। রিটকারীদের দাবি, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অনেক দেশে বিকিরণের যে মাত্রা অনুমোদিত, বাংলাদেশে তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় রেডিয়েশন ছড়ানো হচ্ছে।
আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে গাইডলাইন সংশোধন ও গবেষণার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
