দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে বেগবান করতে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটিতে একজন করে সদস্যকে এই স্কিমের আওতায় আনার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সভায় এই তথ্য জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন। পেনশন তহবিলে এখন পর্যন্ত জমা পড়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা, যা মুনাফাসহ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকায়।
অর্থমন্ত্রী সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তিনি গ্রাহকদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু করা এবং নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। এছাড়া ‘প্রগতি’ স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মত দেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের শ্রমশক্তির ৮৫ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। ২০৭৫ সাল নাগাদ দেশে বয়স্ক নির্ভরশীলতার হার ৪৮ শতাংশে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই বিশাল জনমিতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বজনীন পেনশনকে একমাত্র কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখছে সরকার। বর্তমানে ৪৫টি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে এই নিবন্ধন ও চাঁদাদানের সুবিধা চালু রয়েছে।
