ট্রাম্পকে যেভাবে যুদ্ধের জন্য রাজি করালেন নেতানিয়াহু: রয়টার্সের অনুসন্ধানে বিস্ফোরক তথ্য

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার ৪৮ ঘণ্টা আগে এক গোপন ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের জন্য প্ররোচিত করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রয়টার্সের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নির্বাচনী প্রচারে যুদ্ধের বিরোধিতা করা ট্রাম্প মূলত নেতানিয়াহুর ‘যুক্তি ও প্রতিশোধের’ ফাঁদে পড়েই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অনুমোদন দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দশকের পর দশক ধরে ইরানের ওপর হামলার অপেক্ষায় থাকা নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর আসবে না। একইসঙ্গে তিনি ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন, ইরান একসময় তাঁকে (ট্রাম্পকে) হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। এই হামলা হতে পারে সেই অপচেষ্টার যোগ্য প্রতিশোধ।

গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’: সূত্রমতে, হামলার কিছুদিন আগে দুই নেতা জানতে পারেন যে খামেনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তেহরানে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। নেতানিয়াহু যুক্তি দেন, খামেনিকে সরিয়ে দিলে ইরানের জনগণ বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে রাস্তায় নেমে আসবে।

শেষ পর্যন্ত ২৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প অভিযানের তারিখ এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় খামেনির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন ট্রাম্প নিজেই। যদিও নেতানিয়াহু দাবি করেছেন ট্রাম্পকে কেউ নির্দেশ দিতে পারে না, তবে রয়টার্সের অনুসন্ধান বলছে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াতে নেপথ্যে মূল প্ররোচনাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন নেতানিয়াহুই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *