রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা কাটা হাত, পা এবং ড্রামভর্তি মরদেহের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ওবায়দুল্লাহ নামে এক মার্কেটিং কর্মীকে হত্যার পর তার দেহ সাতটি খণ্ড করে রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন পয়েন্টে ফেলে দিয়েছিলেন তারই রুমমেট শাহীন আলম। রোববার (১ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে পল্টন এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে মানুষের একটি বিচ্ছিন্ন পা উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর একে একে বায়তুল মোকাররম স্টেডিয়াম গেট থেকে দুটি হাত এবং কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় তদন্তে নামে পল্টন মডেল থানা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনিবার বিকেলে মতিঝিলের হীরাঝিল হোটেলের সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানান, তিনি ও নিহত ওবায়দুল্লাহ কমলাপুর কবি জসীমউদ্দীন রোডের একটি বাসায় গত দুই মাস ধরে একসাথে থাকতেন। শাহীন ‘হীরাঝিল হোটেল’-এ কাজ করতেন এবং ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিও ক্লিনিকে মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে হীরাঝিল হোটেল থেকে বাসায় ফেরার পর ওবায়দুল্লাহ তাকে বারবার নিচে নেমে সিগারেট এবং পরে রুটি-কাবাব আনতে পাঠান। রমজান মাসে ইফতারের পর ছয় তলা থেকে বারবার নিচে নামানোয় শাহীনের মধ্যে চরম বিরক্তি তৈরি হয়। রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলা শুরু করলে দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড তর্কাতর্কি হয়। শাহীন অভিযোগ করেন, ওবায়দুল্লাহ তাকে এর আগে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তর্কের একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহীন রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে ওবায়দুল্লাহকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
গ্রেপ্তারের পর শাহীনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতুয়াইল ময়লার ভাগাড় থেকে খণ্ডিত মস্তক এবং আমিনবাজার সালেহপুর ব্রিজের নিচ থেকে কোমরের অংশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘাতকের বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, ওবায়দুল্লাহর মোবাইল ফোন এবং লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত সাইকেলটি জব্দ করেছে।
শাহীন আলম হবিগঞ্জ থেকে তিন মাস আগে ঢাকায় এসেছিলেন। বন্ধু মারুফের সূত্রে ওবায়দুল্লাহর সাথে পরিচয় এবং একই রুমে বসবাস শুরু করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
