নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার সাঁটানোর প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এর প্রতিবাদে আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ও হল সংসদের নেতারা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দায়ীদের শনাক্ত করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী ও ছাত্র প্রতিনিধি প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ছাত্রলীগের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই দাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাও পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
প্রক্টরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এবি জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও গত রাতে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পোস্টার লাগিয়েছে। এর আগেও তারা শেখ হাসিনার ছবি ও ব্যানার টানানো এবং গেটে তালা লাগানোর মতো স্পর্ধা দেখিয়েছে। প্রশাসনের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীরা আবারও ক্যাম্পাসে ফেরার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই দুষ্কৃতকারীদের পরিচয় বের করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, “পোস্টার লাগানোর খবর পাওয়ার পর আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এস্টেট অফিসকে দ্রুত সব পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিষয়টি তদন্ত করছি এবং এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে ক্যাম্পাসের মধুর ক্যান্টিন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, কেন্দ্রীয় মসজিদ, কলাভবন, কার্জন হল এবং শামসুন্নাহার হলসহ বিভিন্ন হলের দেয়ালে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ লেখা পোস্টার দেখা যায়। গভীর রাতে সাঁটানো এই পোস্টারগুলোর ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।ঢাবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার: প্রক্টর অফিস ঘেরাও ডাকসু নেতাদের
