টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলো৷ ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)৷ বাজুসের নতুন এই রানিং সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা৷ আজ সোমবার (৬ জুলাই) থেকেই দেশের সমস্ত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে মূল্যবান এই অলঙ্কারটি নতুন এই পুনর্নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে৷
তেজাবি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস ও বাজুসের সিদ্ধান্ত: বাজুসের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে— দেশের স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে৷ তাই সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করে এবং গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে৷
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী— দেশের বাজারে এখন থেকে ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৫ thousand ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা৷ বাজুস স্পষ্ট জানিয়েছে— পরবর্তী নির্দেশ বা ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সমস্ত জুয়েলারি দোকানে এই নতুন দাম কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে৷ তবে অলঙ্কারের ডিজাইন বা নকশা অনুযায়ী কারিগরদের মজুরি এর সাথে আলাদাভাবে যুক্ত হবে৷ যেহেতু বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাই জুয়েলার্সগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদা করে কোনো ভ্যাট আদায় করতে পারবে না৷ এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ (বদল) ও পারচেজের (ক্রয়) ক্ষেত্রে সংগঠনের আগের নিয়মগুলোই বহাল থাকবে৷
চলতি বছরের রেকর্ড সমন্বয়: এর আগে সর্বশেষ গত ৩ জুলাই বাজুস প্রতি ভরিতে এক লাফে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়েছিল৷ যার ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকায় পৌঁছেছিল৷ সে সময় ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮৭ thousand ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা৷
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন— বৈশ্বিক বাজার ও ডলারের রানিং হারের কারণে চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে রেকর্ড ৮৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো৷ যার মধ্যে ৪৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৩ বার কমানো হয়েছে এবং মাত্র ১ বার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে৷ অন্যদিকে দেশের বাজারে রুপার দামে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনেনি বাজুস৷ বাজারে আগের নিয়মেই ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায়৷ এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে৷
