পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত এক্সপ্রেসওয়েতে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১১ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আজ সোমবার (২৫ মে) পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘সামা টিভি’ (Samaa TV) স্থানীয় উদ্ধারকারী সূত্রের বরাতে এই মেগা দুর্ঘটনার খবরটি প্রকাশ করেছে।
মোটরওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সোয়াত এক্সপ্রেসওয়ের ইসমাইলা এলাকার রাস্তার পাশে করাচি থেকে বুনারের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস সাময়িক যাত্রাবিরতির জন্য দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক সেই সময় পেছন দিক থেকে রাওয়ালপিন্ডি থেকে দিরের অভিমুখে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসা একটি যাত্রীবাহী ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ভ্যানটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে বাসের ভেতরে ঢুকে যায়।
উদ্ধারকর্মীদের প্রাথমিক ধারণা, ভ্যানচালকের তীব্র অসাবধানতা, ঘুম চোখে গাড়ি চালানো এবং এক্সপ্রেসওয়ের নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
মোটরওয়ে পুলিশের এক মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মহাসড়ক পুলিশ এবং রেসকিউ ১১২২-এর একাধিক উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রেন ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ভ্যানের ভেতর থেকে একে একে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আহত সাতজন যাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত খাইবার পাখতুনখোয়ার বিখ্যাত ‘মারদান মেডিকেল কমপ্লেক্সে’ (Mardan Medical Complex) ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তবে প্রাথমিক তদন্তে চালকের মারাত্মক গাফিলতিকেই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সূত্র: সামা টিভি
