পুনেতে বিষাক্ত মদে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনায় মূল সরবরাহকারী যোগেশ গ্রেপ্তার

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে জেলায় বিষাক্ত দেশি মদ পান করে গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান হোতাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে মামলাটি স্থানীয় থানা পুলিশ থেকে সরাসরি বিশেষায়িত শাখা ‘ক্রাইম ব্রাঞ্চের’ কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এই গণমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের যৌথ অভিযানে যোগেশ ওয়ানখেড়ে নামে মূল চক্রের প্রধান আসামিকে আটক করা হয়েছে। তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের পর তাকে প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যোগেশ দীর্ঘদিন ধরে পুনে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় এই প্রাণঘাতী মেথানল মিশ্রিত বিষাক্ত মদ সরবরাহ করে আসছিলেন।

রাজ্য আবগারি দপ্তরের পুলিশ সুপার অতুল কানাডে জানিয়েছেন, ধৃত অভিযুক্ত ব্যক্তি অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে সাধারণ মদের মধ্যে তীব্র বিষাক্ত কেমিক্যাল ‘মেথানল’ মিশিয়ে দিয়েছিল, যার ফলেই এই একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে যোগেশকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের পুলিশ কমিশনার বিনয় চৌবে পুরো অভিযানের আপডেট জানিয়ে বলেছেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৭ জন অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জন সরাসরি পুলিশ হেফাজতে এবং বাকি ২ জন রাজ্য আবগারি দপ্তরের হেফাজতে রয়েছেন।

পুনের ফুগে‍ওয়াড়ি ও দাপোডি এলাকায় ১৩ জন এবং হাদাপসার ও কালেপাদাল এলাকায় আরও ৫ জনসহ মোট ১৮ জনের মৃত্যুর পর নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার ভয়ানক বর্ণনা দিয়ে জানান, বিষাক্ত ওই মদ পান করার পর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই ভুক্তভোগীদের শরীর জুড়ে তীব্র বমি ও তীব্র পেট ব্যথা শুরু হয় এবং চোখের পলকে অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই অনেকে মারা যান।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযোগ করেছেন, দাপোডি, ফুগেওয়াড়ি ও হাদাপসার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্য ও অবৈধভাবে এই দেশি মদের ব্যবসা চলছিল। কিন্তু পুলিশ ও আবগারি বিভাগ সব জেনেও এতদিন কোনো কার্যকর বা কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি, যার চরম মাশুল দিতে হলো ১৮টি তাজা প্রাণকে।

বিষাক্ত মদের এই ভয়াবহ তাণ্ডবের ঘটনায় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি পুনে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের পুলিশ কমিশনারদের সাথে জরুরি বৈঠক করে দ্রুত ও সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুরো চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের এমন কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। এর আগে ময়নাতদন্তের পর পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য অপরাধের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *