বান্দরবানে বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মাধবী মারমার মনোনয়ন: বিতর্কের মুখে ‘হাইব্রিড’ তকমা

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বান্দরবান থেকে অ্যাডভোকেট মাধবী মারমাকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বান্দরবান জেলা বিএনপির একাংশ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঘোষিত ৩৬ জনের তালিকায় মাধবী মারমার নাম আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে এই বিতর্ক।

তৃণমূল নেতাদের মূল আপত্তির জায়গা হলো মাধবী মারমার অতীত ভূমিকা। অভিযোগ উঠেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের উপেক্ষা করে এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ত্যাগী কর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “দীর্ঘদিনের ত্যাগীদের উপেক্ষা করে হাইব্রিডদের পুনর্বাসনের এই চেষ্টা কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে। গত ১৭ বছর তিনি কোথায় ছিলেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।” অন্য এক নেতা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি সাধারণ আসনের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড়ি-বাঙালি আনুপাতিক হারের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে ভালো হতো।

সমালোচনার বিষয়ে অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে কে কী বলছে, সেটি আমার দেখার বিষয় নয়। দল আমাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই মনোনয়ন দিয়েছে। আমি সকল দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই এবং দলের সুনাম বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকব।”

তৃণমূলের এই বিরোধ মনোনয়ন পরবর্তী কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *