বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক অংশীজনদের কাছে বাংলাদেশের জন্য দুই বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বিশেষ সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সংসদ সচিবালয়ের দপ্তর থেকে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি’ (এজেক) প্লাসের এক অনলাইন সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির পরিচালনায় এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরা অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট বিশ্ব পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সম্মেলন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালোভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের কথা তুলে ধরেছেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) প্রতিনিধিরাও এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেয়। মার্চের শুরুতে পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় সরকার রেশনিং শুরু করতে বাধ্য হয়। বর্তমানে বাজারে তেলের সরবরাহ গত বছরের বিক্রির হারের সঙ্গে মিল রেখে করা হচ্ছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ ভিড় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
