আদানির ‘অসম’ চুক্তি নিয়ে হার্ডলাইনে সরকার: দেশের স্বার্থই সবার আগে

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিকে ‘বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতীয় রিভিউ কমিটি। এই চুক্তির ফলে প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা (৫০ কোটি ডলার) বাড়তি গচ্চা যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিধিবিধান মেনে দেশের স্বার্থ রক্ষায় চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার।

জাতীয় রিভিউ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে সই হওয়া এই চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণে চরম বৈষম্য করা হয়েছে। ভারত থেকে আমদানিকৃত অন্যান্য বিদ্যুতের গড় দাম যেখানে প্রতি ইউনিট ৪.৪৬ সেন্ট, সেখানে আদানির বিদ্যুতের দাম ধরা হয়েছে ৮.৬১ সেন্ট। চুক্তিতে এমন কিছু ‘অদ্ভুত সূচক’ ব্যবহার করা হয়েছে, যার কারণে বাংলাদেশকে বাজারদরের চেয়ে ৪০-৫০ শতাংশ বেশি দাম দিতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি বহাল থাকলে ২৫ বছরের মেয়াদ শেষে আদানি গ্রুপ বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি) বাড়তি হাতিয়ে নেবে। কমিটি এই চুক্তিকে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে এটি বাতিলের সুপারিশ করেছে।

এই প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্প্রতি সচিবালয়ে মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক চুক্তি বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আদানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি অনেক বড় এবং জটিল। বিগত সরকারের আমলের অসম চুক্তিগুলো নিয়ে বর্তমান সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশকে প্রাধান্য দেওয়া।”

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট। যেখানে সর্বোচ্চ চাহিদা মাত্র ১৭ থেকে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। বিশাল উদ্বৃত্ত সক্ষমতা থাকার পরও কেন চড়া দামে আদানি থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হচ্ছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

জ্বালানি মন্ত্রী আরও জানান, শুধু আদানি নয়, বিগত সরকারের আমলে করা অন্যান্য সব বিতর্কিত ও অসম চুক্তির বিষয়েও তদন্ত চলছে এবং পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *